খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩০ জুলাইঃ রাম মন্দিরের অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগ সামনে আসার অনেক আগেই নাকি সব জানত মন্দির পরিচালনাকারী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। শুধু তা-ই নয়, পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার বদলে প্রথমে নিজেদের স্তরেই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও দাবি। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধান চম্পত রাইয়ের পদত্যাগপত্রে এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
অনুদান চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই ট্রাস্টের প্রধানের পদ ছেড়েছেন চম্পত রাই। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এফআইআর দায়ের করার দু’দিন আগে ট্রাস্টের উদ্দেশে লেখা তাঁর পদত্যাগপত্রে দাবি করা হয়েছে, গত ৪ জুন রাতেই ট্রাস্টের কর্তারা জানতে পারেন যে অনুদানের টাকা গণনার সময় নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরদিন সকালে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে কয়েক জন যুবককে চিহ্নিতও করা হয়। অভিযোগ, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে টাকা ফেরত দিতে বলা হয় এবং ৮ জুনের মধ্যেই সেই অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে এখানেই। যদি ট্রাস্ট প্রথম থেকেই ঘটনাটি জানত, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হল না কেন? পদত্যাগপত্রে চম্পত রাই লিখেছেন, প্রথমদিকে বিষয়টি পুলিশে জানানো প্রয়োজন বলে মনে করা হয়নি। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ট্রাস্ট। এরপরই উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তদন্তের আবেদন জানানো হয়।
এই বক্তব্য সামনে আসতেই বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ট্রাস্ট কি প্রথমে পুরো ঘটনাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল? যদিও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের বিস্তারিত জবাব মেলেনি।
এরই মধ্যে ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। সেই তদন্তের অগ্রগতির উপর নজর রেখেছে সুপ্রিম কোর্টও। সর্বোচ্চ আদালত সিটকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছেন, তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে এবং দ্রুত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত সম্পূর্ণ করার উপরই জোর দিচ্ছে আদালত।
চম্পত রাইয়ের পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর রাম মন্দিরের অনুদান চুরি মামলায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন নজর সিটের তদন্তে সত্যিই কি ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, নাকি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই প্রথমে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার উত্তরই নির্ধারণ করবে বিতর্কের ভবিষ্যৎ।





