কলকাতা, ১৩ জুলাইঃ তৃণমূলের ‘আসল’ মালিকানা নিয়ে লড়াই এবার আদালতের এজলাসে আরও তীব্র। একদিকে দলীয় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, অন্যদিকে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার কার—তা নিয়েই সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে মুখোমুখি কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবির। তবে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার আর্জি জানালেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন সোমবার গ্রহণ করল না বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ।
সোমবার শুনানিতে নিম্ন আদালতের নির্দেশের উল্লেখ করে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তারাই প্রকৃত তৃণমূল, ফলে দলীয় অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকারও তাদেরই। কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যথাযথ আবেদন ছাড়া এই দাবি শোনা হবে না। তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্রপার অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আসুন। আপনাদের কথা এখন শুনতে চাই না।’’
অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি অভিযোগ করেন, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দলীয় অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তা ফ্রিজ করে দেয়। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অচল করে দেওয়া গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন এখনও ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া সত্ত্বেও ঋতব্রত শিবির কীভাবে একমাত্র প্রতিনিধিত্বের দাবি করছে?
শুনানিতে ইডির তরফে জানানো হয়, নিম্ন আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশের ভিত্তিতেই অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এ নিয়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, নিম্ন আদালতের ওই মামলায় কালীঘাট শিবিরকে আদৌ পক্ষ করা হয়েছিল কি না এবং কোনও ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার এখতিয়ার নিম্ন আদালতের রয়েছে কি না।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে এখনও দুই পক্ষই নিজেদের দাবি জানিয়ে রেখেছে। কে প্রকৃত তৃণমূল, সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলীয় অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে আইনি লড়াই যে আরও জটিল হতে চলেছে, সোমবারের শুনানি সেই ইঙ্গিতই দিল।





