বারুইপুর, ৭ জুলাই: ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে নাবালক প্রসেনজিৎ বিশ্বাসকে পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন অভিযুক্তকে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। পরে ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হয়। এদিকে, মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও তুলেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর থানার পালপাড়া ব্যাঙ্ক সংলগ্ন এলাকায় ১৭ বছরের প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচে প্রসেনজিতের দল জয়ী হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। মাঠে বচসা হলেও তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
অভিযোগ, সোমবার প্রতিপক্ষের কয়েক জন প্রসেনজিৎকে কথা বলার অজুহাতে একটি জায়গায় ডেকে নিয়ে যায়। তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রসেনজিতের গলায় কোপ মেরে খুন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
মৃতের দিদির দাবি, ‘‘পরিকল্পনা করেই ওকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়েছে।’’ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ছয় জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।
মঙ্গলবার ধৃতদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।
ঘটনার পর মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং প্রাক্তন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





