কলকাতা, ২ জুনঃ কলকাতা পুরসভার অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার ইঙ্গিত মিলল। মেয়র পারিষদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলর তারক সিং। দলীয় নেতৃত্ব এবং পুরসভার বর্তমান কাজকর্ম নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেই তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তারক সিং। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে পরিচিত তিনি। পুরসভার নিকাশি ও জল সরবরাহ বিভাগের মেয়র পারিষদ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারক সিং অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর প্রশাসনিক কার্যকলাপ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, বহু আধিকারিককে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নও থমকে রয়েছে।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর অনেকেই আর অফিসে আসছেন না। আধিকারিকদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ডাকলে কয়েকজন আসছেন ঠিকই, কিন্তু কাজের গতি নেই। বর্ষার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ছিল, সেগুলির কোনওটাই এগোচ্ছে না। এইভাবে কাজ করা সম্ভব নয়।”
মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারক সিং। তাঁর অভিযোগ, চলতি মাসে মেয়র পারিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি, অথচ বিষয়টি নিয়ে মেয়রের তরফে কোনও আলোচনা বা ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “মেয়র পারিষদের বৈঠক হল না, কিন্তু কেন হল না তা নিয়েও কোনও আলোচনা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে আমার আপত্তি রয়েছে।”
এছাড়াও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার নোটিস পাঠানোর বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই সময়ে মেয়রকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
শেষে তারক সিং বলেন, “কর্পোরেশনের তেল পুড়িয়ে প্রতিদিন আসছি, অথচ কাজ করতে পারছি না। মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ না থাকলে পদে থাকার কোনও অর্থ নেই। সেই কারণেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”তাঁর এই পদত্যাগকে ঘিরে কলকাতা পুরসভার অন্দরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।





