কলকাতা, ২ জুনঃ দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ফের তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হলেন উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভায় যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। একইসঙ্গে দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নেতৃত্বের একাংশকে দায়ী করেন তিনি।
সোনারপুরে বিক্ষোভ ও জনরোষের ঘটনার পর সাংসদ হিসেবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার আবেদন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত বলেন, “আমাদের কোনও দিন নিরাপত্তা চাইতে হয়নি। যাঁকে জনগণ রক্ষা করবে, তাঁকেই আজ নিরাপত্তা চাইতে হচ্ছে। এত বড় জননেতা ২৬ দিন বাইরে বেরোতে পারেননি।” তিনি আরও বলেন, “আমি গদ্দার হতে পারি, কিন্তু চোর নই। আমাকে কেউ চোর বলছে না। আমি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ছাড়াই মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি।”
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত এই বিধায়কের দাবি, কর্পোরেট ধাঁচে দল পরিচালনার চেষ্টা এবং তৃণমূলের মূল রাজনৈতিক চরিত্র থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলেই আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে তোলা জনভিত্তিক দলকে ধীরে ধীরে এমন এক কাঠামোয় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার ফল এখন স্পষ্ট।
তবে দলের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে বলে জানান ঋতব্রত। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী খুব কম আছেন। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল, আছে এবং থাকবে।”
মঙ্গলবার বিধানসভায় যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন ঋতব্রত। যদিও বিধানসভার সচিবের সঙ্গে তিনি দেখা করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজনৈতিক কৌশলবিদ তথা জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই দাবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।





