আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

স্পিকারের দপ্তরে ৫০ বিধায়কের চিঠি? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে, বিস্ফোরক পোস্ট মন্ত্রী তাপস রায়ের

Published on: June 2, 2026
---Advertisement---

কলকাতা, ২ জুনঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রবিবার তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে কম উপস্থিতি এবং তার পরদিন বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের ডাকা বৈঠকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, সম্প্রতি তৃণমূলের ডাকা বিধায়ক বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন। অন্যদিকে, সোমবার বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে ৩০-এরও বেশি বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঋতব্রত ও সন্দীপনের বক্তব্য, তাঁদের পাশে থাকা বিধায়কদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হয়েছে তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত।” পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “খেলা হবে।” রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

পরবর্তীতে বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় আরও বলেন, “তৃণমূল দলটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। এতদিন অনেকেই চাপ ও ভয়ের কারণে মুখ খোলেননি। এখন সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছে।” তিনি দাবি করেন, দলের ভাঙন আরও স্পষ্ট হতে পারে আগামী দিনে।

রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর-সম্বলিত একটি চিঠি বিধানসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যদিও মঙ্গলবার স্পিকার বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিল্লি সফরে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ওই চিঠি বিধানসভার সচিবের কাছে জমা দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

চিঠিতে নাকি নতুন তৃণমূল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের প্রকৃত দাবিদার বিদ্রোহী গোষ্ঠীই। যদিও এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে শিবসেনার ভাঙন এবং পরবর্তীতে দলের প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা। একইভাবে এনসিপিতেও ভাঙনের ফলে শরদ পাওয়ারের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মহারাষ্ট্রের ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে।

তবে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি ও রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেও আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment