কলকাতা, ৩১ মে: আগামী ২২ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। তবে অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধী দলের মর্যাদা এবং পরিষদীয় দলের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিধানসভায় ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের মর্যাদা পায়নি। বিধানসভা সূত্রে খবর, স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
সূত্রের দাবি, তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের স্বীকৃতি এবং বিধানসভায় আলাদা ঘরের দাবি জানিয়ে আবেদন করা হয়েছিল। প্রথমে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো আবেদনপত্র খারিজ করে দেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। পরে বিধানসভায় নির্দিষ্ট সংখ্যক বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ নতুন প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সেই প্রস্তাব জমা পড়ার পরই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, প্রস্তাবে থাকা একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর সন্দেহজনক। বিষয়টিকে গুরুতর বলে মনে করে অধ্যক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তর। ইতিমধ্যে একাধিক তৃণমূল নেতা ও বিধায়কের সঙ্গে তদন্তকারীরা যোগাযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল বিধায়করা বিরোধী আসনে বসলেও আনুষ্ঠানিক বিরোধী দলের মর্যাদা বা আলাদা ঘর পাবে না। অন্যদিকে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং নির্দল বিধায়কদের জন্য বিধানসভায় নির্দিষ্ট পরিকাঠামো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দল হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এমন অভিযোগ নজিরবিহীন। তদন্তের ফলাফলের উপরই এখন নির্ভর করছে বিরোধী দলের মর্যাদা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।





