পূর্ব বর্ধমান, ৩১ মে: ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগে দলের আরও কয়েকজন নেতার নামও উঠে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তৃণমূল নেতা দিগন্ত পালকে আটক করা হয়। পরে একই মামলায় বিশ্বনাথ সাহা নামে আরও এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।
অভিযোগকারী কাটোয়া-২ ব্লকের কড়ুই অঞ্চলের নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ। পেশায় ট্রাকচালক ওমরের দাবি, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন যে তাঁর নামে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কৈথন শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। শুধু তাঁর নয়, গ্রামের আরও বহু মানুষের নামেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। অথচ সেই অ্যাকাউন্টগুলির অস্তিত্ব সম্পর্কেই কিছু জানতেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওইসব অ্যাকাউন্টে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা জমা পড়েছে এবং পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে উপভোক্তাদের অজান্তে। অভিযোগকারীর দাবি, এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মী জড়িত।
এফআইআরে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, দিগন্ত পাল, বিশ্বনাথ সাহা এবং কড়ুই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি সুকেশ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এই ঘটনা তৃণমূলের দুর্নীতির আরেকটি উদাহরণ। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।





