হুগলি, ৩১ মে: পরপর দু’দিন জনবিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তেজনার পর রবিবার হুগলির চণ্ডীতলায় বিক্ষোভকারীদের ঢিলের আঘাতে আহত হলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
জানা গিয়েছে, সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাচ্ছিল তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। সেই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগ, থানার সামনে পৌঁছতেই একদল বিক্ষোভকারী তাঁকে কালো পতাকা দেখাতে শুরু করে এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলেটড়ীণ অভিযোগ, পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভকারীদের একাংশ সাংসদকে লক্ষ্য করে ঢিল ও ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। একটি ঢিল তাঁর মাথায় এসে লাগে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। আঘাত পেয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। সঙ্গে থাকা দলীয় কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চণ্ডীতলা থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। তিনি অভিযোগ করেন, গোটা ঘটনার সময় পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সাংসদের প্রশ্ন, কারা হামলা চালাল এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হল না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চণ্ডীতলা এলাকায় দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় ছিল।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরপর দুই সাংসদের উপর হামলার অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও উস্কে দিয়েছে। ঘটনাদুটি ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা।





