শিলিগুড়ি, ৩১ মে: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। রবিবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছনোর পর বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। দলীয় পতাকা, স্লোগান এবং ফুলের তোড়া দিয়ে সাংসদকে স্বাগত জানান দলের কর্মীরা। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
গতকাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনাপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে যে বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে, সেই প্রসঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সৌমিত্র খাঁ তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই পথ অনুসরণ করছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে অতিরঞ্জিত রাজনৈতিক প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। হাসপাতাল পর্ব নিয়েও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বিষয়টিকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
এদিন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কেও আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, আদর্শগত মতপার্থক্য এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে জোটের ভিত দুর্বল। তিনি বলেন, এই জোট দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং ভবিষ্যতে আরও ভাঙনের মুখে পড়তে পারে।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন সৌমিত্র খাঁ। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা, খুন এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
সৌমিত্র খাঁর এই মন্তব্যগুলি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত ও বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিতই মিলছে এই ধরনের মন্তব্যে।





