দিনহাটা, ১৮ মে: কোচবিহারের দিনহাটা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান পাশ সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড়। এই ঘটনায় এবার গ্রেফতার হলেন দিনহাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশংকর মাহেশ্বরী। রবিবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছে,তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। সোমবার দুপুরে ধৃত প্রাক্তন পৌরপ্রধানকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ,গৌরীশংকর মাহেশ্বরীকে রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহর ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। এর আগে শনিবার একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল দিনহাটা পুরসভার কর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে। অভিযোগ,ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়ে আর্থিক অনিয়ম এবং জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই দিনহাটা পুরসভায় বেআইনি উপায়ে বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর অভিযোগ উঠছিল। তদন্তে নেমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে আসে তদন্তকারীদের। এরপরই একে একে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় পুরসভার একাধিক কর্মী ও আধিকারিকদের। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই মৌমিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তে গৌরীশংকর মাহেশ্বরীর নাম উঠে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ।
সোমবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গৌরীশংকর মাহেশ্বরী দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সময় এলে সবটাই মানুষ জানতে পারবে।” যদিও তাঁর এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তদন্তকারী মহল। পুলিশের দাবি, মামলার তদন্তে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ মিলেছে বলেই এই গ্রেফতারি।
এদিকে, এই ঘটনায় দিনহাটার রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তদন্ত এগোলে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।





