নন্দীগ্রাম, ৮ এপ্রিলঃ এসআইআর প্রক্রিয়ায় নন্দীগ্রামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত তালিকায় মোট ১০,৬০৪ জনের নাম বাদ পড়েছিল। সেই সময় ৬৬.৭ শতাংশ ছিলেন অ-মুসলিম এবং ৩৩.৩ শতাংশ মুসলিম। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় মোট ২,৮২৬ জনের নাম বাদ পড়ে, যার মধ্যে প্রায় ২,৭০০ জনই মুসলিম। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৯৫.৫। অন্যদিকে অ-মুসলিমদের নাম বাদ পড়েছে মাত্র ১২৬ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪.৫ শতাংশ।
জানা গিয়েছে, নাম বাদ পড়াদের মধ্যে ৫১.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৮.৯ শতাংশ মহিলা। প্রশ্ন উঠছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে কেন এই বিপুল পরিবর্তন ঘটল এবং কেন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপরেই এই প্রক্রিয়ার প্রভাব বেশি পড়ল।
এই নিয়ে তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান অভিযোগ করেন, “বিজেপির ইঙ্গিতে সংখ্যালঘুদের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তাঁরা বিজেপির ভোটার নন।” তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনাল চালু হয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন করেছে, এতে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও জল্পনা বাড়ছে।





