কলকাতা, ২৯ মার্চঃ নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক স্তরে টানাপোড়েনের আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এক ধাক্কায় রাজ্যের ৮৩ জন বিডিও (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার) ও এআরও (অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার)-কে বদলি করা হয়েছে। এই রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি বদল করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ১৪ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১১ জন আধিকারিককে সরানো হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট ১, বাসন্তী, কাকদ্বীপ, ফলতা, বিষ্ণুপুর ১, মিনাখা, পাথরপ্রতিমা, ডায়মন্ড হারবার ১ ও ২, মথুরাপুর ১, ক্যানিং ২ ও ভাঙড় ১ ব্লকের বিডিওদের বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি ১, চণ্ডীপুর, পটাশপুর ২, তমলুক, রামনগর ১, মহিষাদল, নন্দীগ্রাম ১ ও ২, কাঁথি ১, এগরা ২, ভগবানপুর ২, রামনগর ২ ও সুতাহাটা ব্লকের বিডিওদেরও সরানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও এই রদবদলের প্রভাব পড়েছে। কোচবিহারের দিনহাটা ২, কোচবিহার ১ ও হলদিবাড়ি, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, বানারহাট ও মালবাজার সহ একাধিক ব্লকে বিডিও বদল করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও একাধিক আধিকারিকের বদলি হয়েছে।
এছাড়াও হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম জেলাতেও বেশ কিছু বিডিও বদলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটল ভোটের মুখে।
উল্লেখ্য, অফিসার বদল ইস্যুতে আগে থেকেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু আধিকারিককে সরানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





