হলদিয়া, ১৪ অক্টোবরঃ শিল্পের হাত ধরে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় নতুন বিনিয়োগ ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠছে ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র। বুধবার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের রাসায়নিক শিল্পে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দশীয় বাজারে কাঁচামালের জোগানেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ফেনল ও অ্যাসিটোন দুই রাসায়নিকই আধুনিক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ওষুধ, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, রং-সহ একাধিক শিল্পক্ষেত্রে এই রাসায়নিকের প্রয়োজন হয়। ফলে হলদিয়ায় উৎপাদন বাড়লে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষত, বিদেশ থেকে রাসায়নিক আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর যে লক্ষ্য, সেই দিক থেকেও প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, বছরে ৩৪৫ কিলোটন ফেনল এবং ২১৫ কিলোটন অ্যাসিটোন উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের রাসায়নিক শিল্পের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। পাশাপাশি হলদিয়াকে কেন্দ্র করে প্যাকেজিং, পরিবহণ, সরবরাহ এবং রাসায়নিকের উপর নির্ভরশীল অন্যান্য অনুসারী শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনাও রয়েছে।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের অন্যতম সুবিধা হল, একই শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং ও বণ্টনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ। এই সমন্বিত ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রকল্পের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও রাসায়নিকের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্বও বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে হলদিয়ার এই বিনিয়োগ শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে বিকল্প জোগানের পথ খুলে দিতে পারে।
তবে বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, উৎপাদন শুরু, বাজারের চাহিদা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। নতুন কারখানাকে ঘিরে কর্মসংস্থান ও অনুসারী শিল্পের কতটা প্রসার ঘটে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। সব মিলিয়ে, হলদিয়ায় এই প্রকল্প রাজ্যের শিল্পায়নের পথে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।





