কলকাতা, ৪ ডিসেম্বর: ভোটের আবহে রাজ্যের জনমুখী প্রকল্পগুলোর কাজ ঠিকঠাক চলছে কি না তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের ২৩ জেলার জন্য ২৩ জন সচিবকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতা সহ রাজ্যের সব জেলাতেই একজন করে সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ নজরদারি মূলত বোঝার জন্য বৃহৎ সামাজিক প্রকল্পের কাজ থমকে আছে কি না বা ঠিকঠাক চলছে কি না। এছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়ার চলতি পরিস্থিতিতে কিছু জেলাশাসকের সঙ্গে মুখ্যসচিবের বৈঠক হয়। ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, এসআইআর নিয়ে কোনও চাপ নেবেন না, এবং উন্নয়নের কাজ যাতে একটুও বন্ধ না হয়।
১ ডিসেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৪ বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রাজ্যে এখনও ৯৫টি প্রকল্প চলছে, যার মধ্যে ‘বাংলা আবাস যোজনা’, ‘পথশ্রী’, ‘রূপশ্রী’ এবং ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ এই প্রকল্পগুলোতে বাড়তি নজরদারি দিতে বলা হয়েছে। এরপর নবান্নের পক্ষ থেকে সচিবদের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সচিবদের কাজের মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি দেখা, কোথাও কাজ আটকে আছে কি না খতিয়ে দেখা, এবং জেলাশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে মানুষের কাছে সরাসরি উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা আসলে উন্নয়নের কাজ নয়। ফেক ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্যই করা হচ্ছে। গতকাল শুনলাম ৫০ লক্ষ নাম বাদ গেছে। এখন ৭ কোটি নাম আসতে চলেছে। ভুলভাল ফিল-আপ করলে সবাইকে শুনানিতে যেতে হবে।”
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটের আগে জনমুখী প্রকল্পকে সামনে রেখেই মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য নবান্ন এই তদারকি বাড়িয়েছে, যাতে ভোটারদের মধ্যে উন্নয়নের প্রভাব আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়।





