খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের দুই পিছিয়ে পড়া জনজাতি কুড়মি ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে মর্যাদা দিয়ে তাঁদের মাতৃভাষা কুড়মালি ও রাজবংশীকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে জোরালো সওয়াল জানানো হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই মর্মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
নবান্ন সূত্রে খবর, ভাষাগত মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আবেদন জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে কুড়মি সম্প্রদায়ের বসবাস থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গই প্রথম রাজ্য হিসেবে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাল। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা আদিবাসীদের ‘সারি’ ও ‘সারনা’ ধর্মকে পৃথক ধর্মীয় স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ কার্যকর করার জন্যও কেন্দ্রকে পঞ্চমবারের মতো স্মরণ করিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই দুই ধর্মের স্বীকৃতির দাবি বহুদিনের।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শুরু থেকেই কুড়মি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। ২০১৮ সালেই কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে রাজ্য সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। এবার কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বংশীবদন বর্মনও রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর আশা, এবার কেন্দ্র ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম একাধিকবার সংসদে এই দুই ভাষা ও সারি-সারনা ধর্মের স্বীকৃতির দাবি তুলেছিলেন। যদিও তখন কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, এ বিষয়ে কোনও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই। রাজ্যের এই নতুন উদ্যোগে জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের জনজাতি পরিবারগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই আশাবাদী সাড়া মিলেছে। এখন নজর কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকে।





