কলকাতা, ১৩ মার্চঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ও নজরদারিতে কোনও রকম ফাঁক রাখতে নারাজ জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে পর্যবেক্ষক বা ‘অবজার্ভার’ নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ নিয়োগের প্রাথমিক ভাবনা নেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ১৬০ জন জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন। সে সময় একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হত একজন পর্যবেক্ষককে। কিন্তু এবার সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদি প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়, তাহলে সেই সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে আলাদা পর্যবেক্ষক থাকলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত হবে। শুধু সাধারণ পর্যবেক্ষকই নয়, ভোটে ব্যয়ের হিসাব রাখার জন্য ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে রাজ্যে মোট ৩৭ জন পুলিশ অবজার্ভার ছিলেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। সূত্রের খবর, জেলা বা মহকুমা ভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে এবার বিশেষ অঞ্চল বা বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। এমনকী কোনও স্পর্শকাতর কেন্দ্রে একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে।
এদিকে নির্বাচন ঘোষণার আগেই বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই মর্মে বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে। তালিকায় ন্যূনতম এসডিও পদমর্যাদার আধিকারিকদের রাখা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগে যেখানে ডিএমডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকরা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, সেখানে এবার সেই পদমর্যাদার কাউকে রাখা হয়নি। পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিনিয়র পদমর্যাদার আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের এই প্রস্তুতি থেকেই স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন।





