কলকাতা, ৯ মার্চঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশই বাড়ছে। তবে নির্বাচন ঘোষণার আগেই সংশোধিত ভোটার তালিকা এবং এস আই আর ঘিরে শাসকদল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন -এর মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে। সোমবার রাজ্যে আসা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর হাতে ছয় পাতার একটি বিস্তারিত নালিশপত্র তুলে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্য জুড়ে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজারের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অথচ নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম–৭’-এ আবেদন জমা পড়েছিল মাত্র ৪২ হাজারের কিছু বেশি। তৃণমূলের দাবি, আবেদনের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি মানুষের নাম বাদ যাওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
শাসকদলের অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারপ্রক্রিয়ায় আটকে রাখা হয়েছে। ফলে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, এই প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়েছে জনপ্রতিনিধিদের উপরেও। নৈহাটি পুরসভার কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার ও তাঁর মায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া বিচারপ্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী, আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান,কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মন্ডল এবং চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকার-এর নাম।
ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমার-এর স্বাক্ষরিত চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চারটি মূল দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকার চূড়ান্ত ক্ষমতা আবার ইআরও ও এআরও-দের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া, বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও পঞ্চায়েতের নথি গ্রহণ করা, ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়ার উপর স্বাধীন অডিট করা।
তৃণমূলের দাবি, এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত। দলটির অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে কাজ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশও লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।





