খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ রুজি-রোজগারের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম এলাকার তিন কিশোর। গুজরাটের সুরাটে কাজের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ছত্তিশগড়ে রেল পুলিশের হাতে আটক হয়েছে তারা। শনিবার সন্ধ্যায় এই খবর গ্রামে পৌঁছতেই উদ্বেগে ভেঙে পড়ে পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই ট্রেন থেকে নামিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের ঝামটপুর গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র দাস ও সুখীদেবীর একমাত্র ছেলে ১৬ বছরের কার্তিক দাস। সে বহরান জয়দুর্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার সঙ্গে একই পাড়ার আরও দুই কিশোর রাকেশ দাস ও রতন দাস, সুরাটে একটি পাঁউরুটি কারখানায় কাজে যোগ দিতে রওনা দিয়েছিল। রাকেশও নবম শ্রেণির ছাত্র, তবে রতন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। মোট ৯ জনের একটি দল শুক্রবার সুরাটের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়।
রাকেশের বাবা বাণেশ্বর দাস জানান, তাঁর ছেলে ও পাড়ার ওই তিন কিশোর মাস দেড়েক আগেও সুরাটে কাজ করতে গিয়েছিল। দু’সপ্তাহ আগে তারা বাড়ি ফিরে আসে। ফের কাজে যাওয়ার সময় শনিবার সন্ধ্যায় ফোনে জানানো হয়, ছত্তিশগড়ের একটি স্টেশনে তিনজনকে নামিয়ে রায়পুরে রেল পুলিশের কাছে আটক করা হয়েছে।
গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল হাজরা অভিযোগ করেন, রেল পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের সময় কিশোররা হিন্দি বলতে না পারায় বাংলা বলেছিল। সেই কারণেই তাদের আটক করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। যদিও দলের সঙ্গে থাকা এক যুবকের বক্তব্য, নাবালক হওয়ায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং বয়সের প্রমাণপত্র দেখানোর পর বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর লাগাতার হয়রানি চলছে। আমি প্রশাসনিক স্তরে কথা বলছি, যাতে দ্রুত ওই তিন কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।” ঘটনায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবিও উঠেছে।





