কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে দেখতে না পেয়ে দর্শকদের তাণ্ডবের ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হল অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। শনিবারের বিশৃঙ্খলার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অবশেষে রবিবার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মূল উদ্যোক্তাকে।
শনিবার শহরে পা রেখেছিলেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি। তাঁকে এক নজর দেখার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, ভিনরাজ্য এবং বিদেশ থেকেও যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার ভক্ত। কেউ এসেছিলেন পুরুলিয়া থেকে, কেউ কাঁথি থেকে। আবার বেঙ্গালুরু, শিলং এমনকি নেপাল থেকেও এসেছিলেন মেসিভক্তরা। মাসের পর মাস অপেক্ষা করে, চড়া দামে টিকিট কেটে তাঁরা মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, মাঠে ঢোকার পর থেকেই মেসিকে ঘিরে ছিলেন বিপুল সংখ্যক ভিআইপি। দর্শকদের দাবি, কমপক্ষে ১০০ জন ভিআইপির ভিড়ে কার্যত আড়ালে চলে যান মেসি। ফলে গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে তাঁকে দেখাই যায়নি।
এই হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চেয়ার ছোড়াছুড়ি, ভাঙচুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত মাঠ ছাড়েন মেসি। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামতে হয় পুলিশকে।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানান, অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তাকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন যে শনিবারের অনুষ্ঠানের দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ডিজির কথায়, “অনেক দর্শকই ভেবেছিলেন মেসি হয়তো মাঠে নেমে খেলবেন। মেসি যতটা সময় মাঠে ছিলেন, তা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। এই সব মিলিয়েই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।”
পরে এডিজি জাভেদ শামিম জানান, যুবভারতী ও সংলগ্ন এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং মূল উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দর্শকদের টিকিটের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া যায়, সেই বিষয়েও প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে। এই ঘটনায় আয়োজকদের দায়িত্ব ও অব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।





