মনিরুল হক, কোচবিহার: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন(এসআইআর)ইস্যুতে ফের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের রাসমেলা মাঠের জনসভা থেকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ফাইনাল লিস্ট বেরোনোর পরের দিনই কমিশন ভোট ঘোষণা করে দিতে পারে, যাতে কেউ কোর্টে যেতে না পারে, এই তাদের চালাকি।”
কমিশন আগেই জানিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা। আর সেই তারিখ ঘিরেই নতুন আশঙ্কার সুর তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অগণিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন,“অনেকে মারা যাননি, তবু মৃত দেখানো হচ্ছে। কারও বিয়ে হয়ে অন্যত্র গেছে,সেখানকার তালিকায় নাম যোগ হওয়ার আগেই পুরনো নাম কেটে দিচ্ছে।”
জনতাকে সতর্ক করে তাঁর বার্তা, শুধু ড্রাফটে নাম থাকলেই হবে না, ফাইনাল তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। তিনি জানান, এসআইআরের কাজকর্ম নিয়ে প্রতিদিনই আদালতে অভিযোগ জমা পড়ছে। তাঁর কথায়, “আজকেও কোর্টে কেস আছে। কোর্টের বিচার কোর্ট করবে। কিন্তু মানুষের যাতে দুর্ভোগ না হয়, রাজনৈতিক লড়াইটা আমরা রাজনৈতিক ভাবেই লড়ব।”
প্রকৃত ভোটারদের নাম যাতে না কাটে তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে রাজ্য সরকারের ক্যাম্প চালুর কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনও তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ন্যায়সঙ্গত কারও নাম কাটলে জানান। ডিএম-কে চিঠি দিন,আমাদের দিন আমরা প্রত্যেকটা কেস টেক আপ করব।”
এদিনের সভা থেকে তিনি আরও বলেন, সরকার ও দল সারা বছর মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে “শীতে থাকি, বর্ষায় থাকি না এই রাজনীতি করি না। দুর্দিনেও আমাদের পাবেন।”
শীতলকুচির আনন্দ বর্মণ মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতা বলেন,“যে গুলি চালাল তার কিছু হল না, আর যার পরিবার মারা গেল তাদের পরিবারকেই জেলে রাখা হয়েছে। এটা কী বিচার?” কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে তিনি ‘তোতাপাখি’ এবং ‘পাপেট’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, এজেন্সিগুলোকে বিজেপির রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করা হয়েছে।
এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরালো করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“পুলিশের দরকার নেই, তবু ১ কোটি পুলিশ পাঠাবে। থাকার, খাওয়ার সব খরচ দেবে রাজ্য আর কেন্দ্র গুলি চালাবে, ডান্ডা চালাবে! বর্ডারে গিয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার করবে!”
মমতার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল। এসআইআর–এর সময়সীমা ও সম্ভাব্য নির্বাচনী ঘোষণা ঘিরে তাঁর আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এর প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করার মতো হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





