মুর্শিদাবাদ, ৫ ডিসেম্বরঃ বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধিতা, দলীয় ক্ষোভ, এমনকি মামলা সবকিছুর পর শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়ে দিল, মসজিদ নির্মাণে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।
হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে বেলডাঙা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ছাড়াও আপত্তি জানিয়েছিল তাঁর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসও। কিন্তু তাতে অবস্থান বদলাননি হুমায়ুন। প্রকাশ্যেই জানান, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তাঁর ঘোষিত ‘বাবরি শিলান্যাস’-কে ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়।
শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আদালত কোনওভাবেই মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না। অর্থাৎ আইনগত পথে হুমায়ুন কবীরের প্রকল্প এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর অন্তরায় রইল না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এটি মূলত প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত বিষয়। নির্মাণ নিয়ে বিরোধ থাকলেও আদালত এ নিয়ে রায় দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না।”
এছাড়াও আদালত জানিয়ে দেয়, বেলডাঙা ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারের। মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, প্রয়োজনে তাঁদের ব্যবহার করতে পারবে প্রশাসন। শান্তি বজায় রাখা, সম্ভাব্য অশান্তি রুখে দেওয়া এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে প্রশাসনের মূল কর্তব্য এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
হাই কোর্টের এই রায়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আইনি পথ মসৃণ হলেও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া যে থামবে না, তা মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। বেলডাঙা ও আশপাশের এলাকায় এখনও উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের মাঝখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
হুমায়ুন কবীরের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে কিনা, তা এখন দেখার। আদালতের রায়ে একটি অধ্যায় শেষ হলেও বিতর্কের এখানেই ইতি নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।





