খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: আরও একবার বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। জলা জমির উপর বেআইনিভাবে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মিতা সুলতানার নামে নোটিস জারি করেছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত জবাব না মিললে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর থানার অন্তর্গত মানিক্যহার মৌজায় জে এল নম্বর ৯২, প্লট নম্বর ৪৪০৪-এ প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ভূমি দপ্তরের খতিয়ানে জমিটি ‘নালা’ হিসেবে চিহ্নিত। এই মর্মে একটি গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ জমা পড়ার পরই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নোটিসে ডব্লিউবিএলআর আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
যদিও বুধবার দুপুর পর্যন্ত এমন কোনও নোটিস হাতে পাননি বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “শুনেছি ভূমি দপ্তর থেকে আমার স্ত্রীর নামে একটি চিঠি ইস্যু হয়েছে। কিন্তু চিঠিতে কী লেখা রয়েছে, তা এখনও জানি না।” তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বাড়িটির জমি সরকারি নথিতে ‘নালা’ হিসেবেই চিহ্নিত।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘নালা’ প্রকৃতির জমি সাধারণত জল নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং আইনত তার চরিত্র পরিবর্তন করা যায় না। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এমন পরিবর্তন বেআইনি।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, ২০০৩ সালে স্থানীয় এক ঠাকুর পরিবারের কাছ থেকে জমিটি কেনেন তিনি এবং ২০০৭ সাল থেকে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। বাম আমলে জমির চরিত্র পরিবর্তনের জন্য তিনি একাধিকবার বিএলআরও ও এসডিএলআরও দপ্তরে আবেদন করেছিলেন বলেও জানান। প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়া সত্ত্বেও আবেদন মঞ্জুর হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। এই নোটিসকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠনের জেরেই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এই অভিযোগে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





