কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারিঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিল ভাষা দিবসের একটি ছবি। দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে আয়োজিত ভাষা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাশেই দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজবংশী সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধি অনন্ত মহারাজ-কে।
শনিবারের ওই অনুষ্ঠানে অনন্ত মহারাজকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান এবং স্মারক তুলে দেন। পাশাপাশি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তাঁর কাজের জন্য। রাজনৈতিক বিভাজনের আবহেও এই সম্মান প্রদানকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে অনন্ত মহারাজ রাজবংশী ভাষায় বক্তব্য রাখেন। তিনি রাজবংশী সম্প্রদায়ের অগ্রদূত চিলা রায়ের রচিত কবিতা পাঠ করে মাতৃভাষার মর্যাদা ও জাত্যাভিমানকে সামনে তুলে ধরেন। ভাষা দিবসের মতো মঞ্চে মাতৃভাষায় তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। রাজবংশী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্বের কথাও বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলার বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই রাজ্যের শক্তি। রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে ঐক্যের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিরোধী মহলের একাংশের মতে, এটি নিছক সাংস্কৃতিক সৌজন্য, আবার অন্যদের মতে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তবে সরকারি অনুষ্ঠানে সম্মান গ্রহণের পর অনন্ত মহারাজ স্পষ্ট করেন, মাতৃভাষা ও সমাজের উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি সবসময়ই কাজ করে যাবেন। ভাষা দিবসের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ও সম্মাননা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





