বাঁকুড়া, ১০ ডিসেম্বরঃ বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের লক্ষণপুর সম্মিলনী বিদ্যামন্দিরে সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে অভূতপূর্ব উত্তেজনা। ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎই স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর খবর কম্পিউটার বিভাগের এক শিক্ষক নাকি নিজের ছাত্রের মাকে নিয়ে উধাও! এই খবর মুহূর্তে পরীক্ষার চাপ ভুলিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ওই শিক্ষকই।
অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায়ই শিক্ষকটি তাঁর গ্রামের এক ছাত্রের মায়ের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েন। তারপর থেকে দু’জনেরই আর কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর ফোনও বন্ধ। ফলে সন্দেহ ও কৌতূহল আরও ঘনীভূত হয় ছাত্র, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে। স্কুলে পরীক্ষার দিন সকালেই শুরু হয় গুঞ্জন “স্যারই যদি এমন করেন, তবে আমরা কী শিখব!” এই ক্ষোভের জেরে মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্র-ছাত্রীরা।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরীক্ষার হলেও দেখা দেয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। অনেক ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা না দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরাও। সকলের একই দাবি অভিযোগের মুখে থাকা শিক্ষককে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে এবং তাঁকে খুঁজে বার করে যথাযথ তদন্তের মুখোমুখি করতে হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ উঠলেও একজন শিক্ষক ছাত্রের মাকে নিয়ে পালানোর ঘটনাকে অনেকেই “অসামাজিক” এবং “শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদাহানিকর” বলেই মন্তব্য করেছেন। অভিভাবকদের ক্ষোভের আগুন আরও জ্বালিয়ে দিয়েছে শিক্ষকের পলাতক থাকা। স্কুল কর্তৃপক্ষও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ। অবশেষে খবর পেয়ে সিমলাপাল থানার পুলিশ স্কুলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দীর্ঘ বোঝানোর পর ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ সাময়িকভাবে থামে এবং পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়। তবে চাপা উত্তেজনা ও হতবিহ্বলতা এখনও স্কুলজুড়ে স্পষ্ট।
ঘটনা সম্পর্কে এক ছাত্রের বক্তব্য যেন গোটা পরিস্থিতির সারমর্ম বহন করে, “স্যার যদি ভুল শিক্ষা দেন, তাহলে সঠিক পথে হাঁটব কীভাবে ?”
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষক ও মহিলার সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের খোঁজ মিললেই প্রকাশ্যে আসবে প্রকৃত ঘটনা। তবে আপাতত লক্ষণপুরের এই অদ্ভুত ঘটনা স্থানীয় মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





