নয়াদিল্লি, ৯ মার্চঃ প্রায় চার দশক পর লোকসভা-তে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে চলেছে। সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব, আর প্রথম দিনেই স্পিকার ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
লোকসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলবে। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের শেষদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস -সহ একাধিক বিরোধী দল স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দেয়।
এই প্রস্তাবের পক্ষে বিরোধীরা প্রায় একজোট হয়েছে। যদিও তৃনমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশে সই করেনি, তবু ভোটাভুটির সময় তৃণমূলের সাংসদেরা অনাস্থার পক্ষে ভোট দেবেন বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে সরকার পক্ষও শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষ তাদের সাংসদদের উপস্থিত থাকার জন্য হুইপ জারি করেছে।
সংবিধানের ৯৪ (সি) অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে অতীতে তিনবার স্পিকারকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে গণেশ বাসুদেব মাভালঙ্কার, ১৯৬৬ সালে সর্দার হুকাম সিং এবং ১৯৮৭ সালে বলরাম জাখর-এর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে তিনবারই সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। গত সাত বছর ধরে লোকসভায় ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের সময় তিনি নিজে সভা পরিচালনা করতে পারেন না। ফলে আজকের অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণের জন্য অন্তত ৫০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। তারপর শুরু হবে আলোচনা এবং শেষে ভোটাভুটি। বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস, তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টি-সহ মোট প্রায় ২৪১ জন সাংসদ রয়েছে। অন্যদিকে এনডিএ শিবিরে রয়েছে প্রায় ২৯৯ জন সাংসদ। ফলে সংখ্যার হিসেবে বিরোধীদের জয় পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





