খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৭ জানুয়ারি: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোমো তৈরির একটি কারখানা ও গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনার পর গোটা এলাকা যেন এক ‘মৃত্যুপুরী’। কারখানার সামনে এখন শুধুই কান্না, হাহাকার আর উৎকণ্ঠার পরিবেশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে আটকে থাকার আশঙ্কায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পৌঁছতেই আতঙ্কে ভেঙে পড়ে তাঁদের পরিবার-পরিজনরা। নিখোঁজদের অনেক আত্মীয়-স্বজন ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে পৌঁছে গিয়েছেন। ‘জতুগৃহে’র সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের কোনও খোঁজ পাওয়ার আশায় রাতভর অপেক্ষা করেছেন তাঁরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা ও সৌমিত্র মণ্ডলের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। পাশাপাশি তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা ও শশাঙ্ক জানা নিখোঁজ রয়েছেন। নন্দকুমারের গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতিরও সন্ধান পাচ্ছে না পরিবার। প্রতিটি বাড়িতেই এখন আতঙ্ক আর কান্নার রোল।
গতকাল দিনভর প্রশাসনিক আধিকারিকরা নিখোঁজদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষীন ইসমাইল জানিয়েছেন, অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। পুলিশ, মহকুমা শাসক ও অন্যান্য আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আনন্দপুরেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনজন আধিকারিক পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ওই মোমো কারখানার কোনও বৈধ অনুমোদন ছিল না। দেড়দিন পর দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর উপস্থিতিতে দমকল বিভাগের ডিজি এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে অনুমোদনহীন কারখানা চলছিল, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আনন্দপুরজুড়ে এখন শুধুই শোক, কান্না আর অপেক্ষা নিখোঁজদের কোনও খবরের আশায়।





