কলকাতা, ১৩ মার্চঃ দিন যত এগোচ্ছে, ততই প্রকট হয়ে উঠছে এলপিজি (LPG) গ্যাসের সঙ্কট। এই সঙ্কটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টির দোকানেও। পর্যাপ্ত গ্যাস সাপ্লাই না থাকায় অনেক ব্যবসায়ীই বাধ্য হয়ে আইটেম কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কোথাও কোথাও একবেলার বেশি রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে মিষ্টির দোকানগুলি। গ্যাসের অভাবে অনেক ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানেও ব্যবসায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী পার্থ নন্দী জানিয়েছেন, গ্যাসের সঙ্কটের কারণে দোকানে বেশ কিছু আইটেম কমাতে বাধ্য হয়েছেন তারা। গ্যাস বাঁচানোর জন্য মালাইয়ের বিভিন্ন আইটেম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কড়াপাকের মিষ্টি তৈরিও অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগে বিষয়টি এতটা গুরুতর বলে মনে হয়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যে কঠিন হয়ে উঠছে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। বিয়ের মরসুম সদ্য শেষ হলেও দোকানের নিয়মিত বিক্রি রয়েছে। দোকানের সঙ্গে বহু কর্মচারী, সরবরাহকারী ও তাদের পরিবারের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই হঠাৎ করে দোকান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।
গ্যাস বাঁচানোর জন্য এখন বেশি করে তৈরি করা হচ্ছে সন্দেশ জাতীয় মিষ্টি, যেগুলিতে তুলনামূলকভাবে কম গ্যাস লাগে। অনেক ব্যবসায়ীই চেষ্টা করছেন যতদিন সম্ভব এইভাবে ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যেতে।
অন্যদিকে শহরের ব্যস্ত ডেকার্স লেনেও একই ছবি ধরা পড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার অফিসযাত্রী এখানে খাবার খেতে আসেন। অনেক দোকানে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু বর্তমানে অনেক দোকানদারই পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
এক খাবার বিক্রেতা জানান, তিন হাজার টাকা দিলেও অনেক সময় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক দোকানে আইটেম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ময়দা মাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে, কারণ রান্নার মাঝপথেই গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি কিছু দোকানে বিকল্প হিসেবে কয়লা মজুত করার ছবিও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসায় বড় প্রভাব পড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।





