খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৩ মার্চঃ সোমবার সংসদের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল প্রস্তাবিত সিএপিএফ(কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী)বিল পেশ। উচ্চকক্ষে এই বিল পেশ করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর। তবে বিলটি ঘিরে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানায় বিরোধী শিবির।
বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ, বিল পেশের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁদের কাছে কোনও নোটিশ বা বিলের কপি দেওয়া হয়নি, যা সংসদীয় প্রথার পরিপন্থী। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একযোগে বিল পেশের বিরোধিতায় নোটিশ জমা দেন তাঁরা। প্রতিবাদে তৃনমূল কংগ্রেস-এর সাংসদরা রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন।
তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, সংসদীয় অধিবেশন চলাকালীন তাঁর উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি বাংলায় রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত বলেও কটাক্ষ করেন। এরপরই দলের সাংসদদের নিয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত সিএপিএফ বিলে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীগুলিতে আইপিএস অফিসারদের জন্য উচ্চপদে উল্লেখযোগ্য সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আইজি স্তরের ৫০ শতাংশ এবং এডিজি স্তরের প্রায় ৬৭ শতাংশ পদ ডেপুটেশনের মাধ্যমে আইপিএস অফিসারদের দিয়ে পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই মূলত বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
বর্তমানে সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি, এসএসবি ও সিআইএসএফ আলাদা আলাদা আইনের আওতায় পরিচালিত হয়। নতুন বিলের মাধ্যমে সব বাহিনীকে এক ছাতার তলায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বিরোধীদের দাবি, এই বিল অসাংবিধানিক এবং সুপ্রিম কোর্ট-এর পূর্ববর্তী নির্দেশের বিরোধী।
অন্যদিকে, সিএপিএফ-র নিজস্ব ক্যাডারের আধিকারিকরাও এই বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বাহিনীর শীর্ষ পদে নিজস্ব অফিসারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে নতুন বিল নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।





