খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারিঃ ‘অপারেশন সিন্দুরে’র পর আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান তুলে ধরতে মোদী সরকার সাতটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করে ৩২টি দেশে ৫৯ জন সাংসদকে পাঠিয়েছিল। এবার আরও বৃহত্তর উদ্যোগ নিল লোকসভা সচিবালয়। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা-র উদ্যোগে বিশ্বের ৬৪টি দেশে সাংসদদের পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করা।
লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ৭০৩ জন সাংসদ এই ‘পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’-এর আওতায় বিদেশ সফরে যাবেন। আমেরিকা, জাপান, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, সুইৎজারল্যান্ড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশে প্রতিনিধি দল যাবে। তবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে কোনও দল পাঠানো হচ্ছে না। শাসক এনডিএ ও বিজেপি মিলিয়ে ৩৪৮ জন এবং কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ ৩৫৫ জন বিরোধী সাংসদ এই সফরে অংশ নেবেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের ৩৯ জন সাংসদকে এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লোকসভার দলনেতা অভিষেক ব্যানার্জি আলজেরিয়া সফরে নেতৃত্ব দেবেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বুলগেরিয়া এবং রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন চিলি সফরের দায়িত্ব পেয়েছেন। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জাপান সফরে যাচ্ছেন। তবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-কে কোনও দলে রাখা হয়নি।
এই বৃহৎ কূটনৈতিক সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে কেউ কেউ কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন। সমালোচকদের দাবি, পক্ষপাতের অভিযোগ খণ্ডন করতেই কি সর্বদলীয় সফরের আয়োজন? যদিও লোকসভা সচিবালয়ের দাবি, দেশের কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।





