খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ মার্চঃ বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে যাত্রার শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। ভিনরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তারকা প্রচারক ও শীর্ষ নেতাদের মাঠে নামিয়েও জনসমাগমে ভাটা পড়ায় অস্বস্তিতে রাজ্য নেতৃত্ব। কলকাতা থেকে জঙ্গলমহল, আবার উত্তরবঙ্গ বেশ কয়েকটি সভাতেই দেখা গেছে ফাঁকা চেয়ার আর কম উপস্থিতি।
কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের সভা নিয়েও একই ছবি সামনে আসে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অভিনেতা ও বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তী -র। কিন্তু মাঠে ভিড় না হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ওই কর্মসূচিতে যোগ দেননি বলে দলের অন্দরেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে ফাঁকা চেয়ারের সামনেই তৃণমূলকে আক্রমণ শানাতে দেখা যায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-কে।
অন্যদিকে জঙ্গলমহলের লালগড়ে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ-এর সভাতেও চরম বিশৃঙ্খলার ছবি ধরা পড়ে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে রথ পৌঁছানোয় অনেক কর্মী-সমর্থক ধৈর্য হারিয়ে বাড়ি ফিরে যান। ফলে দিলীপ ঘোষ যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন মাঠে উপস্থিত ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন।
হাওড়ার আমতায় আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখার জন্য বহু মহিলা কর্মী জড়ো হলেও দীর্ঘক্ষণ তাঁর দেখা মেলেনি। বেলা বাড়তে থাকায় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শেষমেশ তিনি পৌঁছনোর সময় মাঠ প্রায় ফাঁকাই হয়ে যায়।
একই ছবি দেখা গেছে শ্যামপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর সভাতেও। সেখানে তিনি রাজ্যে বিজেপির জোয়ারের দাবি করলেও মাঠের উপস্থিতি সেই দাবিকে খুব একটা জোরালো করেনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে বিপ্লব কুমার দেব-এর উপস্থিতিতে যাত্রার সূচনা হলেও সেখানেও জনসমাগম ছিল সীমিত। বিভিন্ন জেলায় একই ছবি সামনে আসায় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে হেভিওয়েট নেতারা মঞ্চে থাকলেও কেন মাঠ ভরছে না? নির্বাচনের আগে এই জনশূন্য সভাগুলো যে বিজেপির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





