খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ ফেব্রুয়ারি: বাঙালির খাবারের তালিকায় রুই মাছের জনপ্রিয়তা বহুদিনের। স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুই দিক থেকেই এই মাছ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রুই মাছের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী হতে পারে।
রুই মাছের একটি বড় সুবিধা হল এতে ক্যালোরির পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাই যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা অতিরিক্ত মেদের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই মাছ ভালো বিকল্প হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রুই মাছ রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও খনিজ উপাদান পায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, রুই মাছের মধ্যে ভিটামিন এ, ডি ও ই–সহ একাধিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়। এই মাছের মধ্যে থাকা ‘কোলিন’ নামের উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ, ফ্যাটের বিপাকক্রিয়া এবং শরীরে পুষ্টি পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুই মাছের তেলে থাকা ওমেগা–থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি রক্তে অণুচক্রিকার জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করে এবং ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমায়। একই সঙ্গে এই উপাদান ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল ও ভিএলডিএলের মাত্রা কমিয়ে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত মাছ খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। সেই দিক থেকে রুই মাছ হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খাওয়া শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে বলে মত চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের।





