খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১২ মার্চঃ আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও সোনার বাজারে দেখা দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। সাধারণত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সোনার দাম দ্রুত বেড়ে যায়, কারণ বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকেই ঝোঁকেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও যুদ্ধের আবহ সত্ত্বেও এবার উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে ধীরে ধীরে কমছে সোনার দাম। ফলে বাজারের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা এবং অনেকেই মনে করছেন, এই সময় সোনায় বিনিয়োগ করা লাভজনক হতে পারে।
বিশ্ববাজারে উত্তেজনার অন্যতম কারণ ইরানের হুঁশিয়ারি। তারা তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে। তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সাধারণত সুদের হার কমাতে চায় না। সুদের হার বেশি থাকলে ডলার শক্তিশালী হয় এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সোনার দামে, যা অনেক সময় কমতির দিকে যায়।
বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান শ্যাক্স-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের আগে সুদের হার কমার সম্ভাবনা খুবই কম। এই ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
ভারতের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে ২৪ ক্যারাট সোনার দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে দিল্লিতে প্রতি গ্রাম ২৪ ক্যারাট সোনার দাম প্রায় ১৬,৩৪৭ টাকার কাছাকাছি। অন্যদিকে এমসিএক্স ফিউচার বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৬১,৫০৬ টাকা। রুপোর বাজারেও পতন দেখা গেছে প্রতি কেজিতে প্রায় ১,৯৯১ টাকা কমে দাম দাঁড়িয়েছে ২,৬৬,৫০০ টাকার কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাম কমে যাওয়া সাময়িক হতে পারে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে। তখন আবার সোনার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়াও সামনে বিয়ের মরসুম শুরু হওয়ায় ভারতে সোনার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কথা ভাবলে এই সময় সোনা কেনা একটি ভালো সুযোগ হতে পারে।





