খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারিঃ বিজেপিশাসিত ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের ‘খুনে’র অভিযোগকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। রেললাইন ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলছে প্রতিবাদ। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনকে ফোন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিহত যুবকের নাম আলাউদ্দিন শেখ। বয়স ৩৬ বছর। তিনি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা। প্রায় পাঁচ বছর আগে উপার্জনের আশায় ঝাড়খণ্ডে যান তিনি। সেখানে গ্রামে গ্রামে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, কাজের সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। সেই কারণেই একাধিকবার হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। আতঙ্কের কথা তিনি ফোনে বাড়ির লোকদের জানিয়েছিলেন বলেও দাবি পরিবারের। বৃহস্পতিবার বিকেলেও পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এরপর থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শুক্রবার সকালে খবর আসে, একটি ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে আলাউদ্দিনের দেহ।
পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন। বাংলাদেশি দাগিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলেই দাবি তুলেছেন তাঁরা। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই বেলডাঙায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। বেলডাঙা স্টেশনে ট্রেন আটকে দেওয়া হয়, ফলে শিয়ালদহ–লালগোলা শাখায় রেল চলাচল ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জেরে কলকাতা-উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচল মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। বিক্ষোভকারীদের একটাই দাবি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। দুপুরের দিকে জেলা পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বৈঠক হয়। নিহতের পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি এবং আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অবস্থান বদল করেন।
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত করে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। হেমন্ত সরেন আশ্বাস দিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং কোনও খামতি রাখা হবে না। দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।





