খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারিঃ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বিএলওদের হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে হিয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও গোটা ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিধায়ক বা বিডিও-র তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিন ফরাক্কা বিডিও অফিসে কর্মরত সমস্ত বুথ লেভেল অফিসার একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বিক্ষোভ চলাকালীনই তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র নির্বাচন সংক্রান্ত আধিকারিক ইআরও-র হাতে তুলে দেন। বিএলওদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন না, তবে যেভাবে এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই তাঁদের আপত্তি।
বিএলওদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে অ্যাপে আপলোড করার পরেও বারবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে এবং সংশোধনের নির্দেশ আসছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে একাধিকবার হিয়ারিং ক্যাম্পে ডাকা হচ্ছে, যা তাঁদের কাছে চরম হেনস্থার শামিল। পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার দায় বিএলওদের উপরই চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিএলওদের দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানসিক চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেকেই প্রতিদিন সরকার প্রদত্ত অ্যাপ খুলতেই আতঙ্কিত হচ্ছেন।
এই বিক্ষোভে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও যোগ দেন। এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে বিডিও অফিসের গেট অবরুদ্ধ করে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। সাময়িকভাবে হিয়ারিং বন্ধ করা হলেও উত্তেজনা কমেনি। এক পর্যায়ে হিয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতা দেবজিৎ সরকার বলেন, “একজন বিধায়কের উপস্থিতিতে সরকারি অফিসে ভাঙচুর অত্যন্ত লজ্জাজনক।” গোটা ঘটনায় ফরাক্কা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।





