খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ আইপ্যাক সংক্রান্ত তল্লাশি ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সংঘাত আরও তীব্র হল। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইপ্যাকের থেকে কোনও জিনিস বাজেয়াপ্ত করলে ইডি অফিসারদের গ্রেফতার করা হবে এমনই হুঁশিয়ারি নাকি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সূত্রের দাবি, তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে ডিজি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ইডি আধিকারিকদের পঞ্চনামায় যেন কোনও জিনিসের উল্লেখ না করা হয়, সে কথা বলেন। এমনকি তল্লাশি অভিযানে কিছু পাওয়া যায়নি এমনভাবে নথিভুক্ত করার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ। ওই নির্দেশ মানা না হলে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও রাজ্য পুলিশ বা রাজ্য সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মুখ খোলেননি ডিজিও।
এদিকে, ইডি কলকাতা হাইকোর্টে যে পিটিশন দাখিল করেছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিকেও ‘পার্টি’ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে নীরবতাই বজায় রয়েছে। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও এজলাসে বিশৃঙ্খলার জেরে তা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে আবেদন করেছে ইডি। আজই শুনানির অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি।
নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে ইডির অভিযোগও গুরুতর। ইডির বক্তব্য, তল্লাশি চলার সময় বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতে থাকা একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইস জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেগুলি অবিলম্বে ইডির হাতে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যতক্ষণ না নথি বা ডিভাইস ফেরত আসছে, ততক্ষণ কোনও তথ্য বিকৃতি না করার নির্দেশও আদালতের কাছে চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যান। তিনি খালি হাতে ঢুকে পরে সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই ফাইল ও নথিগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের হার্ডডিস্ক ও কৌশল সংক্রান্ত কাগজপত্র। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকেও একগুচ্ছ নথি গাড়িতে তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ছড়িয়ে থাকা তৃণমূলের কাগজপত্রই সুরক্ষার স্বার্থে সরানো হয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝেই হাইকোর্টের দ্রুত শুনানি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর। আদালতের নির্দেশই ঠিক করবে, এই সংঘাত কোন পথে মোড় নেয়।





