খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারিঃ পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় বিজেপির ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে বিতর্কে জড়ালেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কর্মসূচির আগে গুসকরার বিখ্যাত রটন্তীকালী মন্দিরে পুজো দিতে গেলেও শেষ পর্যন্ত পুজো না দিয়েই ফিরে আসেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
মঙ্গলবার গুসকরায় পৌঁছে প্রথমে নদীপট্টি এলাকার দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দিলীপ ঘোষ। এরপর প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন রটন্তীকালী মন্দিরে যান তিনি। সূত্রের খবর, সেই সময় মন্দিরে পুজো করাচ্ছিলেন পুরোহিত সোমরাজ চোংদার এবং আগে থেকেই একাধিক পুণ্যার্থী উপস্থিত ছিলেন। দিলীপ ঘোষ মন্দিরে প্রবেশ করে প্রণাম করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিলক বা প্রসাদ না পাওয়ায় তিনি মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ বিষয়ে দিলীপ ঘোষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
মন্দির থেকে বেরিয়ে গুসকরা স্কুলমোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে আয়োজিত ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। তবে তাঁর মন্দির থেকে পুজো না দিয়ে ফিরে আসার খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা শান্তনু কোনার বলেন, “পুরোহিত নিয়ম মেনেই পুজো করাচ্ছিলেন। দিলীপ ঘোষ এমন কোনও ভিআইপি নন যে, সবাইকে বাদ দিয়ে আগে তাঁর পুজো করতে হবে। মা রটন্তীই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুশান্ত বিশ্বাসের দাবি, দিলীপ ঘোষ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও পুরোহিত তাঁর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি, যদিও আগেই তাঁর আগমনের কথা জানানো হয়েছিল।
তবে অভিযোগ মানতে নারাজ পুরোহিত সোমরাজ চোংদার। তাঁর বক্তব্য, “শুক্লপক্ষের মঙ্গলবার হওয়ায় ভিড় ছিল খুব বেশি। সবাইকে পুজো করিয়ে তারপর দিলীপ ঘোষের পুজোর কথা ছিল। আমি তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম, কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করেই চলে যান।” সব মিলিয়ে একটি মন্দির-ঘটনাই গুসকরায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের ইন্ধন জুগিয়েছে।





