নয়াদিল্লি, ৯ মার্চঃ শিশু ও কিশোরদের জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। মনোবিদ ও শিক্ষাবিদদের মতে, অল্প বয়সে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার পড়াশোনায় মনোযোগ কমানো, আচরণগত পরিবর্তন এবং মানসিক চাপ বাড়ানোর মতো নানা সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা আনার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সূত্রের খবর, ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক শিশু ও কিশোরদের জন্য বয়সভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কাঠামো তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের তিনটি বয়সভাগে ভাগ করা হতে পারে ৮ থেকে ১২ বছর, ১২ থেকে ১৬ বছর এবং ১৬ থেকে ১৮ বছর। প্রতিটি বয়স স্তরের জন্য আলাদা নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি আলোচনায় শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও উঠে এসেছে। দিনে কতক্ষণ ব্যবহার করা যাবে, রাতের নির্দিষ্ট সময়ের পরে লগ-ইন বন্ধ রাখা অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার মতো পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি নাবালকদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট, ভুয়ো তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে অল্প বয়সীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট বয়সের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আনা হয়েছে, আবার কোথাও কিছু প্ল্যাটফর্মে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি আলাদা আইনি কাঠামো তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। সম্ভাব্য বিলটি ভারতের সংসদ -এর আসন্ন অধিবেশনে তোলা হতে পারে। পরে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে তা আরও পর্যালোচনা করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রবেশাধিকার বজায় রেখেও শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।





