শীতলকুচি, ৪ মার্চঃ খলিসামারি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মহিষমুড়ি ঠুটাপাগড়ি দেবদেবীর হাট এবার পা রাখতে চলেছে গৌরবময় ৭৫তম বর্ষে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলা। আয়োজক মহিষমুড়ি ঠুটাপাগড়ি দেবদেবীর হাট ধর্মাচরণ কমিটি জানিয়েছে, হীরক জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে এবারের আয়োজন হবে অতীতের তুলনায় আরও বৃহৎ ও জাঁকজমকপূর্ণ।
দীর্ঘ ৭৪ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা এই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সীমান্ত সংলগ্ন ধরলা নদী-তে পুণ্যস্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও ভোরের কুয়াশা ভেদ করে অসংখ্য পুণ্যার্থী নদীতে স্নান করবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে কড়া নজরদারিতে থাকবেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-এর জওয়ানরা। সীমান্তবর্তী এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও থাকছে একাধিক আকর্ষণ। মেলা শেষের আগের দুই দিন যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হবে। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া খ্যাত ইউটিউবারদের উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে তরুণদের উৎসাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জনপ্রিয় ইউটিউবার প্রীতম রায়-কে।
মেলা প্রাঙ্গণে বসবে নাগরদোলা, ডিস্কো ও ড্রাগন রাইডসহ একাধিক বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। থাকবে স্থানীয় হস্তশিল্প, মিষ্টান্ন ও গ্রামীণ খাবারের অসংখ্য স্টল। শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সের মানুষের জন্য থাকছে আলাদা আকর্ষণ।
মন্দির কমিটির সভাপতি তারিণী মোহন বর্মন জানান, ৭৫ বছরে পদার্পণ তাঁদের কাছে গর্বের বিষয়। সম্পাদক শান্ত বর্মন ও কোষাধ্যক্ষ সন্তোষ বর্মনও জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এই উৎসব দুই বাংলার মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।





