খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ মার্চঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজ্যের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রবিবারই কলকাতায় পৌঁছেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর ১২ সদস্যের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকালে আটটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই জেলাশাসক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই বৈঠকেই কয়েকটি কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্রের খবর, বৈঠকে বিশেষ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, আয়কর বিভাগ এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত নজরদারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ভোটের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এই সংস্থাগুলির আরও সক্রিয় ভূমিকা আশা করেছিল কমিশন। কিন্তু প্রস্তুতির ঘাটতি ও কাজের ধীরগতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের তিরস্কার করেন জ্ঞানেশ কুমার।
শুধু কেন্দ্রীয় সংস্থাই নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বৈঠকে। কলকাতা পুলিশ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়া জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে।
বৈঠকে রাজ্যের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)বিনীত গোয়াল -সহ কয়েকজন আধিকারিক কমিশনের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন বলে সূত্রের খবর। নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, ভোটের সময়কাল শুধু কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং গোটা প্রক্রিয়াটিকে গুরুত্ব সহকারে পরিচালনা করতে হবে।
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, যদি কেউ মনে করেন নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র দেড় মাস সক্রিয় থাকবে এবং তারপর আর নজরদারি থাকবে না, তবে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে বলেই কড়া বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।





