খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বাম আমলের শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-র জমানায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে অনৈতিকভাবে চাকরি দিয়েছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরুর সবুজ সংকেত দিয়েছেন বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকারি কোষাগারের অর্থ এভাবে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে বিলি করা যায় না।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। বিকাশ ভবনে বিভাগীয় সহকারী পদে কর্মরত তিথি অধিকারীকে বর্তমান রাজ্য সরকার বহিষ্কার করে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলার শুনানিতে উঠে আসে, ২০০৭ সালে সর্বশিক্ষা মিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে উলুবেড়িয়া ইস্ট সার্কলে কাজে যোগ দেন তিথি। প্রতি বছর তাঁর চুক্তি নবীকরণ হলেও ২০০৯ সালে কাজে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে এবং ২০১০ সালে চুক্তি আর বাড়ানো হয়নি।
এরপর তিনি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশনায় উল্লেখ, ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে তাঁকে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের বিভাগীয় সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। তাঁর বেতন দেওয়া হয় সর্বশিক্ষা মিশনের তহবিল থেকে, যা সরকারি অর্থ। ২০১২ সালের আগস্টে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আদালতে তিথির দাবি ছিল, কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে বিচারপতি আবেদন খারিজ করে জানান, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়মবহির্ভূত ছিল। ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ এবং সরকারি তহবিল থেকে বেতন প্রদান দুই ক্ষেত্রেই অনৈতিকতা রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।
বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার চাইলে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে পারে। তদন্তে সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের সত্য উদঘাটন সম্ভব বলেও মত আদালতের। এমনকি, এই তদন্তে আরও অনুরূপ নিয়োগের তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারপতি। ফলে বাম আমলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।





