খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্রীয় বাজেটের দিনেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় চাপ। বিড়ি, সিগারেট, গুটখা, পানমশলা-সহ একাধিক তামাকজাত পণ্যের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে চলেছে। গত কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন, তা আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে। ফলে দেশজুড়ে তামাকজাত পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির স্পষ্ট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
নরেন্দ্র মোদি সরকার বিড়ি-সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত সামগ্রীকে ‘পাপ পণ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নতুন জিএসটি কাঠামোয় এই পণ্যগুলিকেই সবচেয়ে বেশি করের আওতায় আনা হয়েছে। তামাক, গুটখা, পানমশলা, মদ ও কোল্ডড্রিঙ্ক এই সমস্ত সামগ্রীতে জিএসটি ও সেস মিলিয়ে করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ডিসেম্বরেই সংসদে দুটি পৃথক বিল পাশ হয়। সেই বিলের মাধ্যমেই পানমশলা উৎপাদনে নতুন সেস এবং তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি আরোপের রাস্তা খুলে যায়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সিগারেটের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি বসছে। পাশাপাশি আরোপ করা হয়েছে ‘হেলথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস’ নামে অতিরিক্ত সেস এবং আলাদা এক্সাইজ ডিউটি।
এর ফলে সিগারেটের দামে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ছোট নন-ফিল্টারড সিগারেটে দাম বাড়তে পারে প্রায় ২ টাকা, মাঝারি সিগারেটে ৩.৫ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। বড় সিগারেটের ক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে ৫ টাকার বেশি, আর কিং সাইজ ও বিশেষ ডিজাইনের সিগারেটে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে ৮ টাকা পর্যন্ত। গুটখা ও পানমশলার ক্ষেত্রেও করের হার ৮৮ থেকে ৯১ শতাংশে পৌঁছনোর ফলে দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগে যেখানে মোট করের হার ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ, নতুন ব্যবস্থায় তা আরও অনেকটা বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তাদের উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কিছুটা হলেও কমতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে ইতিবাচক হতে পারে।





