খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারিঃ সরকারি কর্মচারীদের মৃত্যুজনিত আর্থিক সুবিধা বা ‘ডেথ গ্র্যাচুইটি’ সংক্রান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনল রাজ্য সরকার। এতদিন সরকারি বিধিতে ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞায় বিবাহিত কন্যাসন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে বহু ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার অধিকার নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হত। সোমবার অর্থ দপ্তরের পেনশন শাখা একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, এই সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে বিবাহিত কন্যাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ৩০৯ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাজ্যপাল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট) রুলস, ১৯৭১’-এর ৭ নম্বর নিয়মের সংশ্লিষ্ট উপধারায় পরিবর্তন এনেছেন। এই সংশোধনের ফলে ‘পরিবার’ শব্দটির ব্যাখ্যা আরও যুগোপযোগী ও বিস্তৃত হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘পরিবার’-এর অন্তর্ভুক্ত হবেন মৃত পুরুষ কর্মীর স্ত্রী, মহিলা কর্মীর স্বামী, সৎ পুত্র-সহ পুত্রসন্তান, অবিবাহিতা, বিধবা ও বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা (সৎ কন্যা-সহ), ১৮ বছরের কম বয়সি ভাই, অবিবাহিতা বা বিধবা বোন, প্রয়াত কর্মীর বাবা ও মা এবং বিবাহিত কন্যাসন্তান। ফলে এখন থেকে বিবাহিত মেয়েরাও ডেথ গ্র্যাচুইটির দাবিদার হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।
বিজ্ঞপ্তির একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে জানানো হয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে যদি কোনও সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হয়ে থাকে এবং তাঁর বিবাহিত বা বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যার গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত আবেদন অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেই মামলাগুলি নতুন করে বিবেচনা করে নিষ্পত্তি করতে পারবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরকে জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এতে বহু পরিবার আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাবে এবং প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পথ সুগম হবে।





