খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন ধরে কার্যত বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। রাস্তা ও রেল অবরোধ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকা জুড়ে ছড়ায় তীব্র উত্তেজনা। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতেই রবিবার নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিনের বাড়িতে যান বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান।
রবিবার সকালে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেলডাঙার সুজাপুরের তাতলাপাড়ায় আলাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ইউসুফ পাঠান। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের দুর্দশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কার কথা সাংসদের কাছে তুলে ধরেন। এর আগে এতদিন অশান্তির মাঝেও সাংসদকে দেখা যায়নি বলে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেন ইউসুফ। তাঁর কথায়, “আমি এখানেই ছিলাম। তৃণমূল স্তরে আমাদের সবসময় যোগাযোগ রয়েছে। মানুষজন ও সংবাদমাধ্যমকে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এই পরিবারের পাশে আছি।”
উল্লেখ্য, বেলডাঙায় অশান্তির মধ্যেই মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে বহরমপুরে শনিবার রোড শো করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি বেলডাঙার অশান্তির নেপথ্যে বিজেপির উসকানির অভিযোগ তোলেন এবং নাম না করে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও নিশানা করেন। অভিষেক জানান, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরই ইউসুফ পাঠানকে নিহত শ্রমিকের বাড়িতে যেতে বলা হয়েছিল।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউসুফ পাঠান বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকরা সকলেই দেশের নাগরিক। জীবিকার তাগিদে তাঁরা ভিনরাজ্যে যান। কিন্তু তাঁদের উপর এমন অত্যাচার কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি, শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তৃণমূল সাংসদ।





