কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর: দ্বিতীয়বারের জন্য শনিবার কলকাতায় পা রাখলেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। ভোররাতে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই উন্মাদনায় মেতে ওঠেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখার আশায় ভোররাত থেকেই বিমানবন্দরে ভিড় জমাতে শুরু করেন সমর্থকরা। মেসির কলকাতা আগমন ঘিরে শহরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।
এদিন সাড়ে এগারোটা নাগাদ আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ এবং রডরিগো ডি’পল। যুবভারতীতে ঢোকার মুহূর্তেই গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাস চরমে পৌঁছয়। বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুধুমাত্র মেসিকে দেখার জন্য কলকাতায় ছুটে আসেন।
এর আগে মেসির মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান। শাহরুখ তাঁর ছেলে আব্রামকে নিয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলেন, যা ঘিরে নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়ায় দর্শকদের মধ্যে। সেই সময় যুবভারতীতে চলছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সূচি অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মেসি, সুয়ারেজ ও ডি’পলের তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে সময় কাটানোর কথা ছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করারও কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু শুরুতে সবকিছু ঠিক থাকলেও ধীরে ধীরে চিত্র পাল্টাতে শুরু করে।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পেয়ে দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। মাঠে ঢোকার পর প্রায় ২০ মিনিট মাঠ প্রদক্ষিণ করেই মেসি টানেল দিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁকে অস্বস্তিতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছুঁড়তে শুরু করে। ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার, ভাঙচুর করা হয় গ্যালারির আসন। এমনকি ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে নামার ঘটনাও ঘটে। দর্শকদের অভিযোগ, হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কাটলেও তাঁরা মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মেসির আগমন নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, অব্যবস্থা ও হতাশার জেরে তা মুহূর্তেই রূপ নেয় ক্ষোভে।





