খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারিঃ বাংলার মাটিতে ফের নির্বাচনী যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ২৯৪টি বিধানসভা আসনকে পাখির চোখ করে প্রস্তুতি তুঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির। তবে সংগঠন ও প্রার্থী তালিকা তৈরির নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ পর্যালোচনা ও সমীক্ষার পর অধিকাংশ আসনেই প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতায় সিংহভাগ বর্তমান বিধায়কই ফের টিকিট পেতে চলেছেন বলে খবর। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে আবারও লড়তে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমার ও কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিমের প্রার্থীপদ প্রায় নিশ্চিত। বালিগঞ্জে বাবুল সুপ্রিয়ের আসন বদলের জল্পনা রয়েছে; সেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যেতে পারে। টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের নাম একপ্রকার নিশ্চিত। বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা প্রবল। উত্তর কলকাতায় বড় রদবদল না হলেও নবীন-প্রবীণ মেলবন্ধনের ইঙ্গিত মিলছে।
উত্তর ২৪ পরগনায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে বারাসতে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী আর লড়তে না চাওয়ায় নতুন মুখ আসতে পারে। সুজিত বসু, মদন মিত্র, নির্মল ঘোষরা নিজেদের আসনেই থাকছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাদবপুর, সোনারপুর, বারুইপুরে পরীক্ষিত মুখদেরই ভরসা করা হচ্ছে। কসবায় জাভেদ খানের নাম প্রায় নিশ্চিত। তবে ভাঙড়ে অভিজ্ঞ প্রার্থী আনার ভাবনা রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ সতর্কতা নিচ্ছে তৃণমূল। ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার ভাবনা রয়েছে বলে খবর। চণ্ডীপুরে সোহম চক্রবর্তীর আসন বদল হতে পারে। হলদিয়ায় দলবদল করে আসা তাপসী মণ্ডলের নাম শোনা যাচ্ছে।
হাওড়া-হুগলিতে অধিকাংশ বর্তমান প্রার্থীই টিকিট পাচ্ছেন। শিবপুরে মনোজ তিওয়ারির নাম চূড়ান্ত হয়নি। গৌতম চৌধুরী ও অরূপ রায় এগিয়ে। মুর্শিদাবাদে কিছু আসনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমানেও সীমিত রদবদল হতে পারে।
উত্তরবঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজবংশী ও চা বলয়ের ভোট সমীকরণ মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাই চলছে। কোচবিহারে গত লোকসভা ফল ভাল হওয়ায় আত্মবিশ্বাসী শাসক শিবির। কার্শিয়াংয়ের বিদ্রোহী বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে জল্পনা রয়েছে। মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে শংকর মালাকারের নামও আলোচনায়।
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি এখনও সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে পারেনি বলে রাজনৈতিক মহলের মত। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট-এর জোট চূড়ান্ত হলেও আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত। নওশাদ সিদ্দিকির দলের জন্য কত আসন ছাড়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই রাজনৈতিক অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গেছে। পুরনোদের মধ্যে কারা বাদ পড়বেন, নতুন মুখ কারা আসবেন এবং তারকা প্রার্থী কতজন সেই দিকেই এখন নজর বাংলার রাজনৈতিক মহলের।





