খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ জানুয়ারিঃ উত্তরপ্রদেশে পুলিশের ভূমিকা ঘিরে ফের বিতর্ক দানা বাঁধল। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের প্রশাসন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ একটি তথাকথিত ‘নাগরিকত্ব যাচাইয়ের যন্ত্র’ ব্যবহার করে দেহে মোবাইল ঠেকিয়ে মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। চাপের মুখে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ আধিকারিক বসতিবাসীদের উদ্দেশে বলছেন, “মিথ্যা কথা বলবেন না। আমাদের কাছে যন্ত্র আছে, সেখানে মিথ্যা ধরা পড়ে যাবে।” এরপরই তিনি এক ব্যক্তির পিঠে মোবাইল ফোন ঠেকিয়ে জানান, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের কৌশাম্বী থানা এলাকায়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক একটি বসতিতে গিয়ে বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। সেই সময় এক মহিলা ও এক নাবালিকা মোবাইলে থাকা পরিচয়পত্র দেখিয়ে দাবি করেন, তাঁরা বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ আধিকারিকেরা তাঁদের পরিচয়পত্র মানতে চাননি এবং কথিত যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন।ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ ও কটাক্ষের ঝড় ওঠে। অনেকেই এই ঘটনাকে চলচ্চিত্রের কল্পবিজ্ঞানের সঙ্গে তুলনা করছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
বিতর্ক তীব্র হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইন্দিরাপুরমের সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। যদিও ভিডিওতে থাকা পুলিশ আধিকারিকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে তাঁর নাম অজয় শর্মা।
এখন প্রশ্ন, আদৌ এমন কোনও ‘নাগরিকত্ব যাচাইয়ের যন্ত্র’ পুলিশের কাছে রয়েছে কি না, নাকি এটি ক্ষমতার অপব্যবহার তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। যোগী প্রশাসন এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।





