জলপাইগুড়ি, ২৯ ডিসেম্বর : আপালচাঁদ–গরুমারা জঙ্গল ছেড়ে নাড়াদূড়া চা বাগানে হাতির হানা!বাড়ির ভিতরেই ছিল মানুষ, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা হাতির তাণ্ডবে।দুটি বড় ও এক বাচ্চা হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে।লোকালয়ে, এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল ক্রান্তি ব্লকে।অনেকের বক্তব্য, হাতির পথে বাধা হয়েছে বাড়িঘর।জঙ্গলে ফিরতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বুনোর দলের। পরপর এমন নানাঘটনায় ,জঙ্গল ছেড়ে বারবার লোকালয়ে বুনো হাতির দল ঢুকে পড়ায় এসব প্রশ্ন উঠছে।
জানা গিয়েছে, ক্রান্তি ব্লকের ধোলাবাড়ি সংলগ্ন নাড়াদূড়া এলাকায় ভোররাতে হাতির দল ঢুকে পড়ে।এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। জানা যায়, আজ ভোর নাগাদ আপালচাঁদ অথবা গরুমারা জঙ্গল থেকে তিনটি হাতির একটি দল—যার মধ্যে দুটি পূর্ণবয়স্ক ও একটি বাচ্চা হাতি রয়েছে—প্রথমে ক্রান্তি ব্লকের ঝারমাজ গ্রাম এলাকায় ঢুকে পড়ে।
এরপর ধীরে ধীরে তারা ধোলাবাড়ির বিভিন্ন এলাকা পেরিয়ে নাড়াদূড়া চা বাগানের ১ নম্বর সেকশনে প্রবেশ করে।ঘন কুয়াশার কারণে চারপাশে দৃশ্যমানতা কম থাকায় হাতির দলটি সহজেই গ্রামীণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এই সময় একটি বাড়ির উপর আচমকা আক্রমণে বাড়ির একাংশ ভেঙে যায়।সৌভাগ্যবশত বাড়ির সদস্যরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। তবে এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ভোররাতে হাতির উপস্থিতিতে অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।হাতির দলটি চা বাগান ও লোকালয়ের মধ্যেই ঘোরাফেরা করায় জঙ্গলে ফিরে যেতে সমস্যার মুখে পড়ছে। চারদিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাড়িঘর ও মানুষের চলাচল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে আপালচাঁদ বন বিভাগের একটি বড় দল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হাতিগুলিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বন দফতরের কর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজনকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।এখন সবার নজর বন দফতরের তৎপরতার দিকে—কবে নিরাপদে জঙ্গলে ফিরবে বুনো হাতির দল।আর এভাবেই চলবে কতদিন উঠছে প্রশ্ন।





