আলিপুরদুয়ার, ১৪ জানুয়ারি : বনদফতরের প্রচেষ্টায় অবশেষে হাতির দল আলিপুরদুয়ার জেলার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি জঙ্গলে প্রবেশ করল।ঘন কুয়াশার জেরে পথ হারিয়ে কোচবিহার জেলার বালাসুন্দর এলাকায় ঢুকে পড়েছিল ১৭টি হাতির একটি দল।ঘটনাটি ঘটে ১৩ জানুয়ারি।
জানা গিয়েছে, দলটিতে ছিল ৫টি শাবক, ৫টি কিশোর হাতি এবং ৭টি প্রাপ্তবয়স্ক হাতি।দলটি দালগাঁও বনাঞ্চল থেকে খৈরবাড়ি বনাঞ্চলের দিকে যাওয়ার সময় দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় এবং দলে ছোট শাবক থাকায় হাতির দলটি নির্ধারিত রুট ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
বন দপ্তরের কর্মীরা সারা রাত ধরে হাতির পায়ের ছাপ অনুসরণ করে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করেন। জানা যায়, হাতির দলটি দুটি প্রধান সড়ক এবং একটি রেললাইন অতিক্রম করে ডুডুয়া নদীর ধারে কাশবনের মধ্যে দিনের বেলা আশ্রয় নেয়।এই স্থানটি নিকটবর্তী বনাঞ্চল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশন, জলপাইগুড়ি ডিভিশন, কোচবিহার ডিভিশন এবং বক্সা টাইগার রিজার্ভের বন আধিকারিক ও কর্মীরা। মোট ১০টি আলাদা দল মোতায়েন করা হয় এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য মাইকিং করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
ছোট শাবক থাকায় হাতির দলটি ছিল অত্যন্ত সতর্ক ও ধীরগতির, পাশাপাশি আক্রমণাত্মক হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। তাই মানব চলাচল কমে যাওয়ার অপেক্ষায় সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান স্থগিত রাখা হয়। সন্ধ্যার পর সমন্বিতভাবে হাতিগুলিকে জঙ্গলের দিকে চালিত করার চেষ্টা শুরু হয়। ঘন কুয়াশার মধ্যেও রাত ১টা নাগাদ হাতির দলটি চলাচল শুরু করে এবং ১৪ জানুয়ারি ভোর ৬টা নাগাদ আলিপুরদুয়ার জেলার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি বনাঞ্চলে নিরাপদে প্রবেশ করে।
এই সময় রেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বন দপ্তর ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে হাতির দলটি নিরাপদে জঙ্গলে ফিরে যায়।





