নন্দীগ্রাম, ২১ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষক বদল করা হল। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে হিতেশ চৌধুরীকে, তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অখিলেশ সিংকে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সোমবারই নন্দীগ্রামের পর্যবেক্ষক হিতেশ চৌধুরীকে চিঠি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নন্দীগ্রাম থানার ওসি পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি আরও একাধিক অভিযোগ তুলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে হিতেশ চৌধুরীর কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল।
এর পরদিনই, অর্থাৎ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর জায়গায় নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে অখিলেশ সিংকে। এই দ্রুত সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কমিশন কি নিজেরই নিযুক্ত আধিকারিকের উপর আস্থা রাখতে পারছে না?
প্রসঙ্গত, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবারে রাজ্যে একাধিক পুলিশ আধিকারিক বদলের পাশাপাশি ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণত একজন পর্যবেক্ষককে তিন থেকে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রে হিতেশ চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ভোটের ঠিক আগে তাঁর বদলি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও এই ধরনের বদলি নতুন নয়। এর আগেও মালদহ, জঙ্গিপুর-সহ একাধিক জায়গায় পর্যবেক্ষক বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সময় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, কোন আধিকারিক কোথায় দায়িত্ব পাবেন, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে প্রথম দফাতেই ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। এই কেন্দ্রে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে, যিনি একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে দুই পক্ষই নিজেদের শক্তি সর্বস্ব দিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে। শুভেন্দু নিজের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে তৃণমূলও এই আসন পুনর্দখলে কোনও খামতি রাখছে না। এই আবহে ভোটের ঠিক আগে পুলিশ পর্যবেক্ষকের বদল পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সবমিলিয়ে, নন্দীগ্রামে ভোটের আগে প্রশাসনিক এই বদল যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন নজর থাকবে, এই পরিবর্তনের প্রভাব ভোটের দিন কতটা পড়ে।





